তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ গার্মেন্টস খাতে ভালো অগ্রগতি করেছে, কিন্তু এটি খুব বেশি শ্রমনির্ভর। উচ্চতর মূল্য সংযোজনের দিকে আরো বেশি নজর দিতে হবে।’
গতকাল উজবেকিস্তানের সমরখন্দে অনুষ্ঠিত এডিবির ৫৯তম বার্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ।
আলবার্ট পার্ক সতর্ক করে বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা যদি এ খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে—যেমনটি অতীতে দেখা গেছে।’
এডিবির এই প্রধান অর্থনীতিবিদ পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের উচিত রফতানি খাতে বৈচিত্র্য আনা এবং বিভিন্ন খাতে শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ তৈরি করা। গার্মেন্টস খাতের মতো সুবিধা অন্যান্য খাতে নিশ্চিত করা গেলে নতুন পণ্য রফতানির সুযোগ প্রসারিত হবে।’
তিনি জানান, বৈশ্বিক উত্তেজনা সত্ত্বেও গ্লোবাল ভ্যালু চেইন এখনো স্থিতিশীল রয়েছে এবং এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। তবে এর সুফল বিভিন্ন দেশ বা সব শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠান সমানভাবে পাচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট নিল ফস্টার-ম্যাকগ্রেগর বলেন, ‘এ চেইনগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখলেও সুবিধাগুলো মূলত বড় কোম্পানি এবং উচ্চমূল্যের, পুঁজিনির্ভর খাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন দেশের সক্ষমতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শুধু সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করবে না; বরং স্থিতিস্থাপকতা, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা হবে মূল নির্ধারক।’